সারা দেশে চলমান বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। একইসঙ্গে মেজর সিনহা হত্যায় অভিযুক্তি টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাসের পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

একাদশ জাতীয় সংসদের চলতি নবম অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির এই নারী নেত্রী এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এই যে টেকনাফে কুখ্যাত ওসি প্রদীপ ২০১৯ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম পাওয়ার ক্ষেত্রে যে ৬টি কথা উল্লেখ করা হয় তার প্রত্যেকটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পুরস্কারস্বরূপ যদি কোনও পুলিশ অফিসার সর্বোচ্চ পদক পান, তাহলে সেটি তো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহিত করবে, সেটাই স্বাভাবিক।’

তিনি বলেন, ‘শুধু যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড তাই নয়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অর্থ লেনদেন বিষয় জড়িত আছে। দেখা যায় সাধারণ পরিবার থেকে মানুষ ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, অর্থ দাবি করা হয় এবং সেই অর্থ না পেলে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়। অথচ আমরা শুনেছি, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- ‘বাংলাদেশে গুম বলে কোনও শব্দ নেই’। একই লাইন ধরে পুলিশের আইজি কিছুদিন আগে বলেছেন- ‘ক্রসফায়ার নামেও কিছু নেই। এটি এনজিওগুলোর শব্দ’।’

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘যে রাষ্ট্রে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করা হয় সেখানে এটাই ইঙ্গিত করে যে, বিচার বিভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে। আইনের শাসন ধ্বংস হয়ে গেছে। মানুষ বিচারের প্রতি আস্থা হারিয়েছে এবং রাষ্ট্র অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।’

সিনহা হত্যার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি একটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সবার দৃষ্টি কেড়েছে। অথচ প্রতিদিনই একটির বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়। আমি যদি পরিসংখ্যান দিয়ে বলি- ২০১৮ সালে ৪৬৬ জন, ২০১৯ সালে ৩৮৮ জন আর ২০২০ সালে করোনাকালে প্রথম ৬ মাসে ১৫৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আমরা যদি পাটিগণিতের হিসাব অনুযায়ী বলি তাহলে প্রতিদিন দেশে একজনের বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে।’

ব্যারিস্টার রুমিন বলেন, ‘বারবার বলা হচ্ছে এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু এগুলোর একটিও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কারণ আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে গত এক যুগে অর্থাৎ গত ১২ বছরে ৩ হাজারের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।’

0000

অবশ্যই পড়ুন

0000